গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুই শহীদের মৃতদেহ এবং আরও চারজন ফিলিস্তিনির শহীদ হওয়ার কথা জানিয়ে বলেছে: "গত কয়েক ঘন্টায়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনকরে ইসরাইলি হামলায় ১১ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।" পার্ টুডে এবং গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৮,২৯৭ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং ১,১১,৭৩৩ জন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: নতুন শৈত্যপ্রবাহ ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে
এদিকে, গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বারশ বলেছেন যে গাজায় নতুন শৈত্যপ্রবাহ ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। "আল-বারশ" গাজা উপত্যকায় "ঠাণ্ডা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় তাপীকরণ যন্ত্র এবং সরঞ্জামের তীব্র অভাব রয়েছে।" গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালকের মতে, নবজাতক শিশু এবং ৩ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে রয়েছে যাদের জীবন ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পশ্চিম তীরে দখলদারদের অপরাধ বৃদ্ধি ইহুদিবাদীদের ফ্যাসিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ
হামাস এক বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলেছে যে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সরকারের অপরাধ বৃদ্ধি এবং ধ্বংসাত্মক ও হত্যাকাণ্ডের তীব্রতা ফিলিস্তিনের জনগণ ও ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে সরকারের ফ্যাসিবাদী ও রক্তপিপাসু দৃষ্টিভঙ্গির প্রমাণ এবং পশ্চিম তীরে প্রতিরোধের ক্রমবর্ধমান ঢেউ থামাতে ইসরায়েলের ব্যর্থ প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
হামাস: গাজা থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার সকল ইহুদি বন্দীদের একযোগে মুক্তির শর্ত
অন্যদিকে, হামাস আন্দোলনের মুখপাত্র "আবদুল লতিফ আল-কানুয়া" বলেছেন: "ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হল যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায়ের দুটি বিষয়, এবং এই দুটি দাবি পূরণ হলে আমরা সকল শত্রু বন্দীকে একবারে মুক্তি দিতে প্রস্তুত।" আল-কানোয়া আরও বলেন: ইহুদিবাদী সরকার ফিলিস্তিনি জনগণকে হত্যা করার জন্য নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিরোধের অস্ত্র একটি রেড লাই এবং তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।
গাজাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করতে হবে: ইসরাইলি মন্ত্রী
এদিকে, গাজার বিরুদ্ধে ১৫ মাস যুদ্ধের পর প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে ইসরাইল সরকার ব্যর্থ হওয়ার পর, ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা'র দাবি করেছেন যে এই উপত্যকা সম্পর্কিত যেকোনো প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় এ এলাকাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আমেরিকার মুখ মুছে গেছে: ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞ
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং কর্মী মুহাম্মদ আল-কুর্দও জোর দিয়ে বলেছেন যে, যদি আপনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আজকাল গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলতে দেখেন, তাহলে মনে হবে যেন আমেরিকার মুখোশ খুলে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ফিলিস্তিনি জনগণকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা, জাতিগতভাবে তাদের নির্মূল করা এবং ফিলিস্তিনি ভূমি ও এর সম্পদ দখল করার প্রবণতা থেকে বোঝা যায় এটা সবসময় আমেরিকার স্বার্থ এবং মহাপরিকল্পনার অংশ, সেই সাথে এই অঞ্চলে নিজস্ব সামরিক আধিপত্য বজায় রাখা এবং এটি পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার স্বার্থের অংশ।#